ঘুরতে যাবো, কিন্তু কোথায় যাই সেটা ভাবতে ভাবতে ঠিক করলাম জঙ্গলে যাই, তাই ২০ মে ২০২৩ সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়লাম বাড়ি থেকে, আমার ভাই বললো তার মোটর সাইকেল নিয়ে যাবে, আমি ও  মাথা নেড়ে হে বলে দিলাম , ঠাকুরপুকুর থেকে আমি আর ভাই মোটর সাইকেলে চেপে একের পর এক সেতু পারকরে চলেছি আমাদের গন্তব্যের দিকে | মজার বিষয় হলো আমাদের মোটর সাইকেল বলে কোনো টোল এ টাকা দিতে হয় নি | যাইহোক ডানকুনি হয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস হয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে ছুতে চললাম ভেল্কিমাচন এর উদ্দেশে |
শক্তিগড় এর পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে মনে হলো একটু দাঁড়িয়ে সকালের টিফিন তা করে নিলে কেমন হয়, আমরা বর্ধমানে দাঁড়িয়ে হালকা করে একটু জল বিস্কুট কেক খেয়ে ২০ মিনিটের মতো বিশ্রাম নিয়ে নিলাম, আমাদের ক্লান্তি দূর হওয়া মাত্রই মোটর সাইকেলে বসে গন্তব্য স্থলের দিকে রওনা দেব এমন মুহুতে ঘটে গেল এক দুর্ঘটনা, উল্টো দিকথেকে আসা এক টোটো সপাটে আসে মরলো আমাদের মোটর সাইকেলে, আর সাথে সাথে আমরা দুজনে মাটিতে পরে গেলাম, এর মধ্যে টোটো বাবাজি চম্পট দিয়েছে, আমাদের মোটর  সাইকেলে ভালো মতোই ক্ষতি হয়েছে, সামনের ভাইজার পুরো ভেঙে গিয়াছে, এর মধ্যে দেখি মোটর সাইকেল স্টার্ট হচ্ছে না, তখন আমরা বাড়ি থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার দূরে, কি করবো  ভাবতে ভাবতে প্রায় ১০ মিনিট কেটে গেলো, অবশেষে আমাদের মোটর সাইকেল স্টার্ট নিলো, আমরা সব দুঃখ কষ্ট ভুলে বুকে পাথর বেঁধে এগিয়ে চললাম ভালকী মাচান এর উদ্দেশে, আমরা বেশ কিছু টা যাওয়ার পর পুরসা হাই স্কুল থেকে ডানদিকে পুরাসা স্টেশন রোড ধরে রেল লাইন পার করে  অভিরামপুর এর দিকে যেতে লাগলাম, সময় টা ছিল গ্রীস্ম কাল তাই গরম ও বিশাল হচ্ছিলো,অবশেষে আমরা পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্যে, যেমন টা গুগল ইউটুবে এ দেখেগিয়েছিলাম ঠিক তেমন ই বিশাল এক মাচা, আমরা কিছুক্ষণ চারিপাস্ টা ঘুরলাম, বেশ একটা গভীর ঘন জঙ্গল জঙ্গল মনে হচ্ছিলো, আর সামনের পিচ রাস্তা টা সবে হয়েছে , আর দূর থেকে দুপাশে 
সবুজ ঘন জঙ্গল আর মাঝে ঘন কালো পিচের রাস্তা যা দেখতে লাগছিলো এক কোথায় অপরূপ |যাই হোক এবার কিন্তু বিশাল খিদে পেয়েছে, কি খাবো ভাবতে ভাবতে google ম্যাপে সার্চ করে দেখি আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি তার ঠিক পাশে রয়েছে "অরণ্য সুন্দরী" নাম এক হোটেল কমে রেস্টুরেন্ট, সেখানে পৌঁছে জিজ্ঞাসা করলাম ক্ষুদা নিবারণের জন্য কিছু খাবার পাওয়া যাবে কি ?? মুখের উপর সারাসরি বলে দিলো ," না কিছু পাওয়া যাবে না, খেতে হলে আগে থেকে মানে এক দিন আগে থেকে অর্ডার দিতে হবে, তবে নাকি খাবার পাওয়া যাবে,"এদিকে ছুঁচোতে পেটে ডন বৈঠক দিচ্ছে তারমধ্যে ওই  হোটেল এর স্টাফ আমায় এসে বলছে দাদা বডি মেসেজ করবেন ?? আমি তো তাকে ২-৩ তে খিস্তি দিয়া ই দিলাম, বললাম আমার এখন খিদেতে পেতে ছুঁচো দৌড়াচ্ছে এর তুমি আমার সাথে মজা করছো ??

যাই হোক আমার ব্যাগে হাত দিয়েদেখি ২ তো বাপুজি কেক রয়েছে, কি আর করবো অগত্যা এই দিয়ে আমায় দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজন সেরেফেলতে হলো, এবার আমার গড়ে ফেরার পালা, তাই বাইকে চেপে ছুটে চললাম বাড়ির পথে, তখন ও পেটে খিদে রয়েছে তাই চোখটা চোখটা রয়েছে রাস্তার দুপাশের হোটেলের দিকে, ঠিক শক্তিগড় এ একটা ভাতের  হোটেলে দাঁড়িয়ে পড়লাম, জিজ্ঞাসা করলাম ডিমভাত পাওয়া যাবে ?? দোকানদার বললে হে , ব্যাস ডিমভাত খেয়ে মনে পড়লো তো আমি শক্তিগড়ে দাঁড়িয়ে আছি, আর এখানে লাংচা খুব বিখ্যাত , তবে বাড়ির জন্য নিয়ে গেলে কেমন হয় ?? তাই একটু এগিয়ে গিয়ে একটা দোকান থেকে কিছু টা ল্যাংচা নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম , অবশেষে রাত ৮: ৩০ নাগাদ বাড়ি পৌছে গেলাম, এই একদিনের ভ্রমণ তোমার কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট এ জানাতে পারতেন | 
আপনারা যদি এই ভেল্কিমাচানে  আস্তে চান তবে google ম্যাপ এর সাহায্যে আসতে পারেন